December 5, 2015

জেনে নিন চাকুরির বাজারে প্রবেশের আগে আপনার করনীয় গুলো -- নিজেকে এগিয়ে রাখুন এক ধাপ ।



কনগ্র্যচুলেশন , আপনি গ্র্যজুয়েশন শেষ করেছেন অথবা শেষের পথে !
 কারো কারো মতে “ আমাদের শিক্ষাগত জীবনের শেষ হয় সাধারনত সম্মান শেষ হওয়ার পর” । বাংলাদেশের পেক্ষাপটে যদি ও এটা যায় না , তবু ও শতকরা ৫০ ভাগ শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এটা সত্য ।
সম্মান শেষ করেছেন ? নতুন জীবনের গল্প এখান থেকে শুরু , সম্পূর্ন নতুন এক জীবন যে জীবনের সাথে আপনি অভ্যস্থ না । সম্ভবত এটা একটা ভয়ের আপনার জন্য গল্প শুরু হতে যাচ্ছে - কারন বাংলাদেশের মত দেশে চাকরির বাজারে প্রবেশ জীবনের কঠিন এক অভিংজ্ঞতা হতে পারে।
তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই , কারন আপনার জানা মত অনেকে আছে - যারা তাদের চাকুরির জীবনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে অথবা যাচ্ছে - যেটার মধ্য দিয়ে আপনি যেতে চলেছেন । তারা যদি পারে তাহলে আপনি কেন পারবেন না ? শেয়ার করছি কিছু গুরুত্বপুর্ন টিপস যা কিনা আপনাকে অন্যদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রাখবে - যদি অনুসরন করেন ।



সিভি তৈরি করুন বুঝে শুনে , প্রয়োজনানুযায়ী -

আপনার প্রথম কাজ হবে নিজের সিভি তৈরি করা - এটা করতে গিয়ে বুঝতে পারবেন , আপনার নিজের সম্পর্কে যে ধারনা তা কি আপনার সিভির সাথে মিলে নাকি ! কারন নিজের সম্পর্কে নিজের মূল্যায়ন জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ন , যা কিনা অনেক মন কষ্ট থেকে , অনেক হীনমন্যতা থেকে বাঁচায় , এমনকি অন্যকে সম্মান দিতে ও শিখায় ।
প্রথম সিভি বানানো শেষ হলে - প্রফেশনাল কাজের জন্য আবেদন না করে এমন কিছু কাজের জন্য আবেদন করুন যা কিনা আপনি পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন এখনই। এই ক্ষেত্রে আমাদের দেশের চাকুরি প্রার্থীরা কিছু মৌলিক ভুল করে ,যেমন - সবার আবেদন করে প্রফেশনাল কাজে কিন্তু কোম্পানী হতে ইন্টারভিউ কাল পায় না , বরং হতাশ হয়ে পড়ে । কিন্তু ভাবুন তো - কোন কাজের অভিজ্ঞতা ছাড়া , কোম্পানীর কাজের পরিবেশ সম্পর্কে জ্ঞান ছাড়া কোন কোম্পানী কেন তাদের কাজে আপনাকে নিয়োগ দিবেন ?
তাই প্রথমে আবেদন করুন কোম্পানীর ইন্টার্নশিপ , ভলেন্টিয়ার অথবা পার্টটাইম কাজের জন্য - এই ছোট ছোট অভিজ্ঞতা আপনাকে বড় কাজের জন্য তৈরি করবে , একই সাথে আপনার সিভি দেখে কোম্পানী বুঝে নিবে আপনি অন্তত একদম নতুন না চাকুরির বাজারে । এইক্ষেত্রে টাকার কথা না ভেবে ভাবুন - অভিজ্ঞতার কথা যা কিনা আপনার জন্য বিশাল একটা ভ্যালু যোগ করবে - কারন পরবর্তী চাকুরির জন্য আপনি আর প্রেশার নন , অন্যরা হতে কিছুটা আলাদা , কিছুটা Stand out ।
তবে Internship , Part Time অথবা Volunteer এ কাজ করার ক্ষেত্রে আপনার আগ্রহের জায়গার কথা ভাবুন । ধরুন - আপনি কাজ করেছেন BFC অথবা GP , Credit Department of Bank সেক্ষেত্রে যদি আপনি আপনার লিডারশিপ কোয়ালিটির কথা সিভিতে যোগ করতে পারেন ।

নেটওয়ার্ক বাড়ান -

এমন কিছু লোকের সাথে যোগাযোগ বাড়ান যারা ইন্ড্রাষ্টিতে কিছু মানুষকে চিনে অথবা যারা কিছু ইন্টারভিউ দিয়েছে সে কারনে তারা জানে - কোন ইন্ড্রাষ্টিতে কেমন ধরনের চাকুরীপ্রার্থীর গ্রহনযোগ্যতা বেশী ।
আপনি যদি কোন Volunteer কাজে নিজেকে যুক্ত করেন তাহলে আপনি অন্যদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে যারা কিনা এ ধরনের কোন প্রোগ্রামে যুক্ত না । এ ধরনের কাজে আপনার সম্পৃত্তা বাড়ানো মানে নতুন কিছু মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া , সেই সাথে তাদের অন্য নেটওয়ার্ক এর সাথে যোগাযোগের সুযোগ । এ ছাড়া বিভিন্ন ইভেন্ট এ যোগ দিতে পারেন যেখানে কিছু মানুষ পাবেন যারা আপনার আগ্রহের পেশার সাথে ইতিমধ্যে সম্পৃত্ত ।

কিছু ট্রেনিং করুন -

পেশার সাথে সম্পৃত্ত কিছু ট্রেনিং সহ সিভি আর ট্রেনিং ছাড়া সিভি আলাদা আলাদা মুল্যায়ন পেয়ে থাকে । তাই আপনি যাতে সিভি সর্টিং এ বাদ না পড়েন অথবা নিজেকে অন্য হতে আলাদা করে উপস্থাপন করতে কিছু ট্রেনিং আপনার জন্য আলাদা ভ্যালু যোগ করবে । তা যেন আপনার আগ্রহ এবং পড়ার বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন হয় মনে রাখা ভালো ।
যেহেতু এখন সময় তথ্যপ্রযুক্তির তাই অবশ্যই বেসিক আইটি জ্ঞান থাকা বাধ্যতামূলক - দরকার হলে ট্রেনিং করুন । এছাড়া একাউন্টিং হলে - একাউন্টস সফটওয়্যার এ একটা ট্রেনিং আপনাকে অন্যরা হতে এগিয়ে রাখবে নিশ্চিত ।
ট্রেনিং কিন্তু একটা নেটওয়ার্কিং হাবের মত - এখানে বিভিন্ন সেক্টর হতে অনেক ট্রেনি থাকে যারা কিনা আপনার জন্য এক একটা নোডের মত । তাই ট্রেনিং এ চোখ কান খোলা রাখলে দেখতে পাবেন এমন কেউ আছে যে কিনা আপনার স্বপ্নের পেশার সাথে আগে হতে সম্পৃত্ত অথবা এমন কেউ আছে যে কিনা আপনার আগে হতে আপনার পেশায় আসতে চাচ্ছে । তাদের সাথে যোগাযোগ বাড়ান ভবিষ্যতে আপনার উপকারে লেগে যেতে পারে।

নিজের ব্র্যন্ড তৈরি করুন -

ইন্টারনেট আর সোস্যাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অনলাইনে নিজের আলাদা একটা গ্রহনযোগ্যতা বাড়ান । সম্ভব হলে নিজের জন্য একটা ব্লগ অথবা ওয়েবসাইট বাড়ান , যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে সোস্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের বিভিন্ন গ্রুপ বা পেজ খুলে তাদের অ্যাডমিন হন । বিভিন্ন প্রয়োজনীয় টিপস দিন ইন্টারনেট ঘেটে , নিয়মিত আপনার প্রোফাইল আপডেট করুন । আপনার নাম যাতে সার্চ ইঞ্জিন খুজে পায় তা নিশ্চিত করুন।

তবে মনে রাখবেন - আপনার প্রোফাইল পরিষ্কার রাখা আপনার দায়িত্ব । প্রোফাইলে এমন কিছু পোষ্ট না থাকা ভাল যা কিনা আপনার সম্পর্কে খারাপ , বায়াসড অথবা ভুল তথ্য প্রদান করে । মনে রাখবেন - সময়ের সাথে সাথে চাকুরিদাতারা ও কিন্তু সোস্যাল নেটওয়ার্কে তাদের সম্পৃত্ততা বাড়াচ্ছে আবার অনেক চাকুরি দাতারা তৎক্ষনাত আপনার প্রোফাইল দেখতে পারে - তাই আগে হতে নিজেকে সচেতন রাখুন । 

No comments :

Post a Comment

Thanx for commenting.